রুকইয়াহ কি? এবং কিভাবে করা হয়? (What Is Ruqyah? And How Is It Done?)

রুকইয়াহ কি? (What is Ruqyah?)
রুকইয়াহ বলতে সাধারণত ঝাড়ফুঁকই বুঝায়।
পারিভাষিক অর্থ হচ্ছে, কোরআনের আয়াত, আল্লাহর নামের যিকর, হাদিসে রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত দোয়া ও সহীহ পদ্ধতিতে অনুযায়ী আল্লাহর কাছে কোন বিপদ থেকে সাহায্য প্রর্থণা ও রোগ মুক্তি কামনা করা।
রুকইয়াহর মাধ্যমে কি জটিল,পুরাতন ও যেকোন রোগের চিকিতসা করা যায়?
উত্তর:কোরআনুল কারীম হল সর্বোত্তম শিফা
আল্লাহ তা’আলা বলেছেন-
وَنُنَزِّلُ مِنَ الۡقُرۡاٰنِ مَا هُوَ شِفَآءٌ وَّرَحۡمَةٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۙ وَلَا یَزِیۡدُ الظّٰلِمِیۡنَ اِلَّا خَسَارًا
আমি অবতীর্ণ করেছি কুরআন, যা বিশ্বাসীদের জন্য সুচিকিৎসা ও দয়া, কিন্তু তা সীমা লংঘনকারীদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে। (সূরা বানী ইসরাইল, আয়াত ৮২)
রুকইয়াহ হলো একটি চিকিৎসা পদ্ধতি, আধুনিক ভাষায় পরিচয় করিয়ে দিতে চাইলে এটাকে spiritual healing বলা যায়। অর্থাৎ আধ্যাত্মিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা।
অনেকেই ভেবে থাকেন যে, রুকইয়াহ দ্বারা শুধু জ্বিন যাদুর চিকিৎসাকে বোঝায় কিন্তু এই ধারনাটি ভুল।
রুকইয়াহ’র ব্যাপারে ইসলাম কি বলে?
এই চিকিৎসা পদ্ধতির ক্ষেত্রে শরীয়তের নির্ধারিত গণ্ডি অতিক্রম না করলেই এটা জায়েজ। এব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‘রুকইয়াতে যদি শিরক না থাকে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৫৫৪৪)।
এমনিভাবে মুসনাদে আহমদের হাদীসে রয়েছে,অর্থাৎ,
তোমরা চিকিৎসা করো হে আল্লাহর বান্দাগণ! কেননা,আল্লাহ তাআলা এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেন নি যার ঔষধ সৃষ্টি করেন নি। শুধুমাত্র একটি রোগ ব্যতীত। আর তা হচ্ছে, বয়োঃবৃদ্ধতা।
[2]الرقية الشرعية[1]عَنْ جَابِرٍ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءٌ، فَإِذَا أُصِيبَ دَوَاءُ الدَّاءِ بَرَأَ بِإِذْنِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ»
মুসলিম, হাদীস নং-২২০৪
[2]تَدَاوَوْا، فَإِنَّ اللهَ لَمْ يَضَعْ دَاءً إِلَّا وَضَعَ لَهُ دَوَاءً غَيْرَ دَاءٍ وَاحِدٍ الْهَرَمُ
মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং-১৮৪৫৪।
ইসলামী শরীয়তসম্মত ঝাড়-ফুঁক করাকে আরবীতে রুকইয়াহ বলা হয়। অর্থাৎ, যে আয়াত ও জিকিরসমূহ দ্বারা আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা হয় এবং আরোগ্যের জন্য রোগীকে তার দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা হয়। রুকইয়াহ চার প্রকার:
১। পবিত্র কোরআনের আয়াতসমূহ এবং আল্লাহর সুন্দর নাম ও সুমহান গুণাবলী দ্বারা ঝাড়-ফুঁক। এটা জায়েজ এবং উত্তম।
২। সহীহ হাদীস দ্বারা সুসাব্যস্ত জিকির আজকার দ্বারা ঝাড়ফুক। এটাও জায়েজ।
৩। এমন জিকির আজকার ও দোআসমূহ যার দ্বারা এমন ঝাড়-ফুঁক যা কোন সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয় তবে কুরআন-সুন্নাহর বিপরীতও নয়। এটাও জায়েজ।
৪। এটা হলো এমন মন্ত্র যা কুফর এবং শিরক মিশ্রিত এবং যার অর্থও বোঝা যায় না। যার প্রচলন জাহেলী যুগেও ছিল। এ প্রকার মন্ত্র দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা হারাম এবং এ থেকে মুসলিমদের বেঁচে থাকা ওয়াজিব। যেমন আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন
,اِنَّ اللهَ لَا یَغْفِرُ اَنْ یُّشْرَکَ بِهٖ وَیَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذٰلِکَ لِمَنْ یَّشَآءُ ۚ وَمَنْ یُّشْرِكْ بِاللهِ فَقَدِ افْتَرٰۤی اِثْمًا عَظِیْمًا ﴿۴۸
নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহ্ এর সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল।
এক্ষেত্রে আলেমদের মত হচ্ছে, এটা তো অবশ্যই শিরক এবং কুফর থেকে মুক্ত হতে হবে, এমনকি এসবের সন্দেহও থাকা যাবে না। এজন্য ওলামায়ে কিরাম কয়েকটি শর্তের ব্যাপারে একমত হয়েছেন, সেসব হচ্ছে-
(১) কোনো শিরক-কুফর অথবা হারাম বাক্য থাকা যাবে না।
(২) যা দ্বারা রুকইয়াহ করা হবে সেটা স্পষ্ট বাক্যে হতে হবে, যার অর্থ ভালভাবে বোঝা যায়।
(৩) দুর্বোধ্য কোনো সংকেত বা ভাষায় হওয়া যাবে না, যার অর্থ স্বাভাবিকভাবে মানুষ বুঝে না।
(উদাহরণস্বরূপ আপনি বাংলাদেশে ল্যাটিন ভাষার রুকইয়াহ করতে পারবেন না, কারণ এখানকার মানুষ সেটা বুঝবে না। এজন্যই সালাফের মাঝে কেউ কেউ ঝাড়ফুঁক আরবিতে হওয়াকেও শর্ত বলেছেন। তবে মূলত: স্বাভাবিকভাবে বোধগম্য ভাষায় হলে, আরবি হওয়া আবশ্যক না।)
আর হ্যাঁ! রুকইয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই আকিদা রাখতে হবে, রাক্বির কোনো সাধ্য নেই কাউকে সুস্থ করার কিংবা বিপদ দূর করার। সুস্থতা এবং বিপদমুক্তি আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে, এখানে রুকইয়াহ কেবল দোয়ার অনুরূপ ভূমিকা পালন করছে। অর্থাৎ রুকইয়াহ আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার একটি পদ্ধতি মাত্র।